ঈদের আগেই চট্টগ্রামের ফুটপাতে নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এই সময়ে নতুন টাকার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার বিশেষ উদ্যোগে নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে ব্যাংকগুলোতে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও নগরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে নতুন নোটের ব্যবসা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
নিউ মার্কেট মোড়ে ফুটপাতে নতুন টাকার ব্যবসা করছেন জাকির হোসেন। তার সামনে সাজানো রয়েছে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল। তিনি জানান, নিয়মিত নতুন টাকার সরবরাহকারী থাকায় বাড়তি দাম দিয়ে নোট ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১০ টাকার নোটের। ২০ টাকার নোটেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে এই দুই নোটের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় ১০ টাকার এক হাজার টাকার বান্ডিল দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ঈদ উপলক্ষে যাকাত, সালামি বা আত্মীয়স্বজনকে উপহার দেওয়ার জন্য অনেকেই নতুন নোট কিনে থাকেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে নতুন নোটের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অনেকেই সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন নোট সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। শহরের অনেক নারী–পুরুষ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, যা জীবিকার একটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন নোট সংগ্রহ করে বিক্রি করা এক নারী জানান, তিনটি বান্ডিল কিনে তিনি প্রায় ৩০০–৩৫০ টাকা লাভ করেছেন। নাজিবুল্লাহ্ নামের এক ক্রেতা বলেন, “নতুন–পুরোনো টাকার মান এক, তবে ঈদের আনন্দ বাড়ানোর জন্য ছোটরা নতুন নোট পেলে খুশি হয়।”
নিউ মার্কেট ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশপাশ, সিডিএ ভবনের সামনে এবং কোর্ট হিল এলাকায় ফুটপাতে নতুন টাকার অস্থায়ী দোকান দেখা যাচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই ব্যবসা তুঙ্গে উঠছে। স্থপতি আশিক ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ফুটপাতে নতুন টাকার বাজার একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য। এটি বাংলাদেশে ঈদের আগে একটি সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।