চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে উন্নতি, ফিলিং স্টেশনে নেই দীর্ঘসারি

0

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘসারি ও চালকদের রাতভর অপেক্ষার ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এখন বেশিরভাগ স্টেশনে তুলনামূলক দ্রুত গ্যাস নিতে পারছেন চালকরা।

আবাসিক খাতেও গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে। সকালে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও পরে চাপ কমে যাওয়া বা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে সমস্যা ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। এতে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার ভোগান্তিও কিছুটা কমেছে।

তবে শিল্পকারখানায় এখনো গ্যাস সংকট রয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৩০০ থেকে ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি থাকছে।

এদিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কাফকো ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি কারখানার দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তারা পাচ্ছে প্রায় ৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতেও গ্যাসের চাপ নিয়ে সংকট অব্যাহত রয়েছে। অনিয়মিত সরবরাহ ও কম চাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি স্বস্তি আনলেও শিল্প খাতের সংকট কাটাতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।