নতুন বছরের শুরু থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবের কারণে শীতকাল—যা পর্যটনের প্রধান মৌসুম—এই সময়েও হোটেল–মোটেল, রিসোর্ট, নৌভ্রমণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাই লেক ও ঝুলন্ত সেতু এলাকায় পর্যটকের উপস্থিতি আগের বছরের তুলনায় কম। নির্বাচনের আগের সাপ্তাহ থেকেই পর্যটকদের স্বাভাবিক অবকাশযাপন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে কক্ষ দখলের হার ৫০–৬০ শতাংশ থাকলেও এবার অনেক স্থানে তা নেমে এসেছে ২৫–৩০ শতাংশে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কক্ষভেদে ৩০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে; কোথাও আবার ইফতার ও সাহরিভিত্তিক বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে।
পর্যটন খাতে মন্দাভাব নেমেছে নৌভ্রমণেও। কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় মাঝি ও শ্রমজীবীদের আয় কমেছে। একই সঙ্গে খাবারের দোকান, চা-স্টল ও হস্তশিল্প বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও বিক্রি কমেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম বলেন, “নির্বাচন ও আসন্ন রমজান—এই দুইটি মৌসুমিক প্রভাব থাকলেও রাঙামাটির পর্যটন খাত সবসময়ই উদ্যমী। ঈদ ও ছুটির মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা আবার বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একবার দেখলে পর্যটকের মনে স্থায়ী ছাপ রাখে। নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য হোটেল, রিসোর্ট ও নৌভ্রমণ সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে।”
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক নেতা বলেন, পর্যটন খাত সক্রিয় থাকলে স্থানীয় বাজার, পরিবহন ও সেবাখাতে স্বাভাবিক গতি আসে। পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক লেনদেনেও ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রাঙামাটির পর্যটননির্ভর জীবনযাত্রা এবং জেলার সামগ্রিক আর্থিক প্রবাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।