বেলালের এক অঙ্গে বহুরূপ! এসআই থেকে সার্কেল এসপি, প্রশাসনের বড় কর্তা সেজে প্রতারণা

0

সম্প্রতি হাটহাজারীতে এক শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে তার পিতা এবং ভাই বখাটেদের হেনস্তার শিকার হন। ওই ঘটনার বিচার করে হামলার শিকার হন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও । থানায় দায়ের হয় মামলা। আর সেই মামলাই হয় বেলালের প্রতারণার পুঁজি!

বেলাল প্রথমে সাজেন হাটহাজারী থানার সেকেন্ড অফিসার, তারপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার। আর এসব পরিচয়ে একে একে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে হাতিয়ে নেন ৫৩ হাজার টাকা।

এখানেই শেষ নয় ! নিজেকে র‍্যাব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আবারও দাবি করেন টাকা। তবে এবার তার শেষ রক্ষা হলো না । ভুক্তভোগীর পরিবারের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে অবগত করেন র‍্যাবকে । পরে র‍্যাব খতিয়ে দেখে আগাগোড়া বিষয়টি ছিল বেলালের প্রতারণা।

বেলালকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় র‍্যাবে চান্দগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানান র‍্যাব- ৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ।

বেলালকে বুধবার দিনগত রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানাধীন নাজিরহাট বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়। সে ওই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের সন্তান।

কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, প্রতারক বেলালের রয়েছে দেহরক্ষী। দেহরক্ষী ওসমান বেলালের হয়ে তার প্রতারণার টাকাগুলো বিভিন্ন জন থেকে আদায় করতেন।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের আগে তার মুরগির ফার্ম ছিল। ওই বছরের মে মাসে সে সর্বপ্রথম প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট হতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করে । বেলালের প্রতারণার শুরু হয় একটি মুদির দোকানে সয়াবিন তেলের ডিলার সেজে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। পরে তার বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতজনকে বিভিন্ন পুলিশ অফিসার বা র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে ভয় দেখাতো।

তিনি বলেন , এরপর সে থানার ওসি সেজে ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার এর নিকট হতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদ প্রার্থীদের মোবাইল নাম্বর সংগ্রহ করে তাদেরকে নির্বাচনে সহযোগিতা করার কথা বলে টাকা আদায় করে। তার দেওয়া ভাষ্যমতে, গত দেড় বছরে প্রতারনাই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস এবং পেশা । সে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছ থেকে এভাবে প্রতারনা করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসাবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বেলাল একটা প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঘুরে বেড়াত এবং বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন লোকের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। টাকা না দিলে কিংবা দিতে দেরি করলে হুমকি ধামকি দিত। বেলাল নিজে কোনদিন কারো সাথে দেখা করত না। টাকা নিত বিকাশে এবং বিকাশের দোকানেও যেত না। বিকাশের দোকানকে অন্য নম্বরে সেন্ড করাতে বলত। এভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে দীর্ঘদিন ধরে সে লোকজনকে প্রতারিত করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সে নিয়মিত প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঘুরে ঘুরে মোবাইলে কথা বলত এবং ফোনের অপর পাশে থাকা ভুক্তভোগীরা তাকে উর্ধ্বতন অফিসার বলে মনে করত। সর্বশেষ রাউজানে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় ময়না তদন্ত করে শিশুটির শরীর কাঁটাছেড়া করার ভয় দেখিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করার কথা বলে ৫ হাজার টাকান হাতিয়ে নেয় প্রতারক বেলাল। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই সংগ্রহ করতো ভুক্তভোগীদের নম্বর ও ঠিকানা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।