রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের গোডাউন ব্রীজ থেকে নেছার উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজার পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ৩নং ওয়ার্ডের বহু ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিনই। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নদী থেকে ভারী ড্রেজার দিয়ে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

সোমবার (৫ মে) সকালে ভাঙন প্রতিরোধ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। পশ্চিম সরফভাটা সিকদারহাটখোলা এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেন স্থানীয় খাইরুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, নুরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, ছাবের তালুকদার, মো. নাজের মেম্বার ও জাহাঙ্গীর আলম মাস্টারসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, সরফভাটা গোডাউন ব্রীজ থেকে নেছারুল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের জুরুর মুখ এলাকা পর্যন্ত কর্ণফুলীর পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। একাধিক আধুনিক বালু উত্তোলন যন্ত্র (ভলগেট) দিয়ে বালু তোলার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এই ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু তোলায় বাধা দিলে স্থানীয় লোকজনকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি নদীপথে এসে হামলাও চালানো হয়েছে।

বিক্ষোভ শেষে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসানের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দেন। ইউএনও আশ্বাস দেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদীর তীর সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাঙামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।