শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদকে স্মরণ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচিত হয়েছে লাখো বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে। তাঁদেরই একজন অকুতোভয় সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ। যিনি জীবন বিসর্জন দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

১৯৫২ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের সৈয়দনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও দেশপ্রেমিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার ডাক এলে তিনি নির্দ্বিধায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা।

১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট, বোয়ালখালী থানা হেডকোয়ার্টারে অবস্থানরত রাজাকার ক্যাম্পে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ। সেই যুদ্ধে অকুতোভয় সাহসিকতার সাথে লড়াই করে তিনি শহীদ হন। প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। তাঁর বুকের রক্তে লেখা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার বিজয়গাঁথা।

শহীদ আব্দুল ওয়াজেদ শুধু সৈয়দনগরের নয়, পুরো বাংলাদেশের এক অমূল্য গর্ব। তাঁর আত্মত্যাগ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকার প্রেরণা জোগাবে। স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তাঁর মতো অগণিত শহীদের রক্তস্নাত ত্যাগের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

এই উপলক্ষে শহীদ ওয়াজেদ বাংলা ভবনে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে শহীদ ওয়াজেদের বোন মোছাম্মাৎ জেবুন্নাহার, মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ জাবেরসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও এলাকার অসংখ্ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে গভীর শ্রদ্ধাভরে শহীদ আব্দুল ওয়াজেদকে স্মরণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে আমাদের অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা, আল্লাহ যেন শহীদ বীর আব্দুল ওয়াজেদ এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী সব শহীদকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।

জাতির ইতিহাসে শহীদ আব্দুল ওয়াজেদ থাকবেন চির অমর, চির অম্লান। তাঁর বীরত্ব, সাহস ও আত্মত্যাগ হয়ে থাকবে স্বাধীন বাংলাদেশের অনন্ত প্রেরণার উৎস।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।