কক্সবাজারের হিমছড়ির একটি রিসোর্টে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর ও ৪৪টি কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা চালানো হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে এসব সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ। রিসোর্টের একটি অংশে ৫০টি ডেস্ক ও ছয়টি শব্দনিরোধ কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, পর্যটকদের থাকার আড়ালে সেখানে একটি কম্পিউটার ল্যাব পরিচালনা করা হচ্ছিল।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচ চীনা ও এক তাইওয়ানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা পলাতক। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চলতি বছরের মার্চ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। চীনা নাগরিক ঝান ইউয়ান ফান ‘বাবর আলী’ নাম ব্যবহার করে এপ্রিল থেকে কক্সবাজারের চারটি স্থাপনা ভাড়া নেন। পরে এসব স্থাপনার ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে রিসোর্টটিতে অভিযান চালায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ আইফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আইফোনগুলো কী কাজে এবং কোন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জব্দ করা সরঞ্জামের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
এরই মধ্যে চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল এবং পরে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি দল রিসোর্টটি পরিদর্শন করেছে। সিটিটিসির প্রাথমিক ধারণা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, অর্থ জমা ও আত্মসাতসহ সংঘবদ্ধ অনলাইন আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
তবে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন একসঙ্গে রাখার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


