কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো একটি পার্সেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের পর শরিফা আক্তার (২০) নামে এক ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কলেজ প্রশাসনের সহায়তায় দোলনচাঁপা ছাত্রীনিবাস থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক শরিফা আক্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক (সমমান) গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি দোলনচাঁপা ছাত্রীনিবাসের ২০০৭ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আলী আকবরপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার লিয়াকত আলীর মেয়ে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শরিফা ছাত্রীনিবাস থেকে বাড়িতে চলে যান। পরদিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তার নামে একটি পার্সেল ছাত্রীনিবাসে আসে। শরিফার অনুরোধে অন্য এক ছাত্রী পার্সেলটি গ্রহণ করে তার কক্ষের খাটের নিচে রেখে দেন।
পরে কক্ষ তদারকির সময় পার্সেলটি হোস্টেলের মেট্রনের সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি ছাত্রীনিবাসের সুপারকে জানানো হয়। এর মধ্যে শরিফা ছাত্রীনিবাসে ফিরে এলে তাকে পার্সেলটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে তার উপস্থিতিতে পার্সেলটি খুলে ভেতরে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, পার্সেলটি শরিফার খাটের নিচে রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে শরিফা প্রথমে দাবি করেন, তার এক আত্মীয় পার্সেলটি সেখানে রাখতে দিয়েছিলেন। তবে এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবার পার্সেলটি ছাত্রীনিবাসে পাঠানো হয়েছিল। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে আটক করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, আটক ছাত্রী এর আগেও কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে তদন্তের পরই বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


