নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গত সাড়ে ছয় বছরে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই বাঁধের দক্ষিণ পাশে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা।
কাপ্তাই ৭ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যমান ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াটের সঙ্গে সম্প্রতি আরও ১ মেগাওয়াট যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৩৩২ কিলোওয়াটের একটি রুফটপ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এছাড়া নতুন করে আরও ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের একটি পৃথক সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, জলবিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কখনও বাড়ে, কখনও কমে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌর বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জ্বালানি হওয়ায় এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, সৌর শক্তির বিস্তারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনও কমবে।
উন্নয়নকর্মী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।


