হজ, মেয়ের বিয়ে বা স্বপ্নের ঘর নির্মাণের জন্য জমানো টাকা নিয়ে লাপাত্তার অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটির লংগদুতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মালিক মো. রাসেলের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ব্যাংকিং আউটলেটে দেখা গেছে, তালা ঝুলছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি জনপদের খেটে খাওয়া মানুষের জমানো ঘাম ঝড়ানো টাকার হদিস না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন গ্রাহকরা। দিশেহারা হয়ে প্রতিনিয়ত ব্যাংকের সামনে ভীড় জমাচ্ছেন অনেকে। তাদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, তারা নিয়মিত ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিতেন এবং ব্যাংক থেকে জমাকৃত টাকার রশিদও বুঝে নিতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রাসেল সেই টাকা গ্রাহকের মূল অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন। গত সোমবার থেকে ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলতে দেখে এবং মালিকের ফোন বন্ধ পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বেশ কয়েকজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিয়েছি, আমাদের কাছে রশিদও আছে। কিন্তু এখন শুনছি আমাদের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। আমাদের সারাজীবনের সঞ্চয় নিয়ে রাসেল পালিয়ে গেছে।
লংগদু সরকারি মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক আজগর আলী বলেন, আমার সহধর্মিণী ৫ লাখ টাকা জমা রেখেছিল উমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে। সে টাকা নিয়েও উধাও। অনেক খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ বিপাকে ফেলে দিলো।
মাইনীমূখ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি রাসেল গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের রাঙামাটি জেলা শাখা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, ব্যাংক বন্ধ করে এজেন্ট নিখোঁজ বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে ব্যাংকের একটি টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি জানান, এজেন্ট না থাকলেও যাদের টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা আছে তারা তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। যাদের টাকা জমার রিসিট দেওয়ার পরও টাকা জমা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ ধরণের কেউ যদি থাকে আমাদের বরারব আবেদন করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো। ব্যাংকটিতে লিগ্যালি ৭ কোটি টাকার মত লেনদেনের তথ্য আছে।
ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী যাদের বৈধ লেনদেন ও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা আছে, তাদের ভয়ের কিছু নেই; তারা টাকা ফেরত পাবেন। তবে ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত লেনদেন বা নিয়মবহির্ভূত লেনদেনের দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।


