চট্টগ্রামের আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দোকানপাট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযানে প্রায় ৫ শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান উচ্ছেদ হওয়ায় হাজারও পরিবারে কর্তারা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে সিইউএফএল সড়কে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সওজের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া আক্তার চৌধুরী। বুধবার (৬ মে) দ্বিতীয় দিনের চলে এ উচ্ছেদ অভিযান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে মাইকিং করা হয়েছে উচ্ছেদ অভিযানের। কোনো ধরণের নোটিশ ছাড়ায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। ব্যবসায়ীদের জিনিসপত্র সড়ানোর সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি তারা। উচ্ছেদ অভিযানের পর প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ী ও দোকান-মালিক বিপাকে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা ব্যবসায়ী এরশাদ সিকদার বলেন, আমাদের দোকানই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। উচ্ছেদের পর এখন পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। অনেকেই মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
আরিফুল ইসলাম নামে এক দোকানি বলেন, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস নিমিষে শেষ। আমাদের চারটা ফ্রুটের দোকান ও একটি মুদির দোকান ছিল। অভিযানে সময় তড়িঘড়ি করে যা পেরেছি আনছি, অনেক ফ্রুট নস্টও হয়ে গেছে।
চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী কাজী আবু তাহের বলেন, দোকান মালিকপক্ষকে কোনো নোটিশ না দিয়ে বিনা নোটিশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার ব্যবসায়ী। একদিন আগে শুধু মাইকিং করে দায় সেরেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরাই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক, কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী শাকিল বিন ইসলাম বলেন, চাতরী চৌমুহনীতে অনেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত। হঠাৎ ক্ষতির ফলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ীদের দ্রুত পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের। যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
চাতরী চৌমুহনী বাজার ইজারাদার জাগির আহমদ সওদাগর বলেন, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার স্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা জরুরি। তা না হলে সামাজিক ও মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
তবে সওজ সূত্র জানায়, চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মেরিন একাডেমি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম। ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি আরসিসি ড্রেন নির্মাণসহ ক্রস ড্রেনও করা হবে।
অভিযানে সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানান, চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি আনতেই মূলত এই উচ্ছেদ। আশা করছি, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।


