চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে হাসপাতলে কর্মরতদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়ে চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর বড়মিয়ার বাড়ির মো. এরফানুল হকের স্ত্রী পুষ্পাকে (২৬) শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তির পর কর্তব্যরতরা প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারির কথা বলেন। স্বজনরা নরমাল ডেলিভারিতে রাজি হলে কিছুক্ষণ পরই অপারেশন টেবিলে নবজাতকের মৃত্যু হয়।

শিশুটির পিতা মো. এরফানুল হক অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার পরিচয়ে তানভীর সুলতানা মুন্নী ও আলিয়া আক্তার নামে দুইজনই নরমাল ডেলিভারির জন্য অপারেশন টেবিলে নিয়ে যান রোগীকে। কিছুক্ষণ পর তারা এসে জানান একটি কন্যাশিশু মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

নবজাতকের চাচা মোহাম্মদ ফাহিম (২৮) বলেন, বিকেল ৫টার দিকে ভাবী অসুস্থতা বোধ করলে আমার মা ও বোন গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে এ হাসপাতালটির সাইনবোর্ড দেখে সেখানে নেমে যান। যাওয়া মাত্রই সেখানে ডাক্তার পরিচয়ে এক মহিলা ও একজন পুরুষ অবস্থা খারাপ জানিয়ে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই মৃত অবস্থায় একটা কন্যা শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। এরপরই জানতে পারি কেউই ডাক্তার নন।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডাক্তার অসিত কুমার বলেন, আজ শুক্রবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত হাসপাতালে ডাক্তাররা ছিলেন। হঠাৎ জরুরি অবস্থায় রোগিটি হাসপাতালে আসলে দায়িত্বরতরা ডেলিভারি করান। ঘটনার সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাও অভিজ্ঞ। এরকম ঘটনা আমরা কখনও কামনা করি না। আমরা সেবা করতে এসেছি মানুষের। এরজন্য হাসপাতালে ভাঙচুর দুঃখজনক।’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশুটির স্বজনের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তৎকালীন কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম নাওশেদ রিয়াদ অভিযান চালিয়ে নার্স দিয়ে রোগী দেখা এবং হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকায় হাসপাতালটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

এরপর ডা. এসএম নাওশেদ রিয়াদ বদলির পর কর্ণফুলীর বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর বিভিন্ন অভিযোগ ও রোগিদের হয়রানির বিষয়টি তদারকি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যার কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।