চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পরও দুই শিশুকে তার লাশ দেখতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাদীর বিরুদ্ধে। এমনকি শিশু দুটিকে নিয়ে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছেন শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিহত লিলি আকতারের বড় ভাই মো. নেজাম উদ্দিন শাহ্ এ অভিযোগ করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় সাবেক মহিলা ইউপি সদস্যা রেজিয়া সুলতানার বাড়ি থেকে গৃহবধূ লিলি আকতার (২৮)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় স্বামী-শাশুড়িসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই মো. রাগীব উদ্দিন শাহ্ বাদী হয়ে স্বামী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (৩৫), শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা (৫০), ননদ মর্জিনা সুলতানা (৩২) ও সাবরিনা সুলতানা (২৫)-এর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বামী মহিউদ্দিনকে আটক করে এবং বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে লিলি আকতারের লাশ তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মাগরিবের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির কেউ হাসপাতালে যায়নি। এমনকি লিলির দুই সন্তান—আদিয়ান (৮) ও ওয়ারিশা (৪)—কে মায়ের মুখ দেখতেও দেওয়া হয়নি।
নিহতের বড় ভাই নেজাম উদ্দিন শাহ্ বলেন, “বিকেলে বাচ্চাদের পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দাদী তাদের নিয়ে কোথায় চলে গেছে, আমরা জানি না। অনেক খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাইনি। শেষবারের মতো মায়ের মুখটাও দেখতে দিল না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, “লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, প্রায় ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে লিলি আকতারের বিয়ে হয় মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


