রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় চতুর্থ দফায় ৬ ইঞ্চি করে ছাড়া হয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় হ্রদের উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষে এবং কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি পরিমান উঠিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরও জানান, এতে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে। কাপ্তাই হ্রদে নির্দিষ্ট পরিমান পানির লেভেল হলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমাতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে রাঙামাটির সচেতন নাগরিক ঐক্য। সংগঠনের ব্যানারে রাঙামাটির সাধারণ জনগণের পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জোবায়দা আক্তারের কাছে জমা দেয়া হয়।
কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ থেকে ১০৬ ফিট হলেই পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটি পৌর এলাকাসহ লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার হাজার হাজার বসতঘর ও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও গত দুইমাস যাবত হ্রদের পানিতে ডুবে আছে রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত সেতু। যার ফলে রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস অব্যাহত রয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপুজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি থাকলেও পর্যটকদের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১১ দিন ধরে কাপ্তাই হ্রদ হতে কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশন করার পর শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় আবারও ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।