ইতিহাস ছুঁয়ে চূড়ায় মেসি: বিশ্বকাপ মঞ্চে ১ থেকে ১৮ গোলের জানা-অজানা উপাখ্যান

0

ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে। কিন্তু লিওনেল আন্দ্রেস মেসি যেন সেই বিরল চরিত্র, যিনি প্রতিনিয়ত নিজের সীমাকে অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস রচনা করেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬— টানা দুই দশকের বিশ্বকাপ যাত্রায় তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ১৮টি গোল। প্রতিটি গোলের পেছনে রয়েছে আলাদা গল্প, আবেগ, সংগ্রাম ও রেকর্ডের ছোঁয়া।

২০০৬: প্রথম পদচিহ্ন

জার্মানি বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ৮৮ মিনিটে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন মেসি। মাত্র ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠতম বিশ্বকাপ গোলদাতা হন। এটিই ছিল বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে তাঁর একমাত্র গোল।

২০১০: গোলহীন এক অধ্যায়

দিয়েগো মারাদোনার অধীনে দুর্দান্ত ফুটবল খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো গোলের দেখা পাননি মেসি। বেশ কয়েকবার পোস্টে লেগে ফিরে আসে তাঁর শট। তবে এই হতাশাই পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে তাঁকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে।

২০১৪: অধিনায়কের কাঁধে ফাইনালের স্বপ্ন

ব্রাজিল বিশ্বকাপে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে চার গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথ তৈরি করেন মেসি। ইরানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে করা বাঁ-পায়ের কার্লিং শট কিংবা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সরাসরি ফ্রি-কিক— দুটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় গোলগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

২০১৮: বাঁচা-মরার লড়াই

রাশিয়া বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের পর ডান পায়ের শটে করা গোলটি আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুলেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় রাউন্ডে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে।

২০২২: স্বপ্নপূরণের মহাকাব্য

কাতার বিশ্বকাপ ছিল মেসির ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ আসর। সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে সাত গোল করে তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন।

২০২৬: বয়সকে হার মানিয়ে

৩৮ বছর বয়সেও মেসির গোলের ক্ষুধা কমেনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে তিন গোলের স্বাদ পান। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে স্পর্শ করেন নতুন এক উচ্চতা। সেই গোল দুটিই তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসায়।

এক নজরে মেসির ১৮ গোল

* ওপেন প্লে থেকে: ১৩টি
* পেনাল্টি থেকে: ৪টি
* ফ্রি-কিক থেকে: ১টি
* ডান পায়ে: ৩টি
* বাঁ পায়ে: ১৫টি
* সবচেয়ে বেশি গোল: নাইজেরিয়া (৩) ও আলজেরিয়া (৩)

যে বয়সে অধিকাংশ ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন, সেই বয়সে মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়েছেন। তাঁর ১ থেকে ১৮ গোলের এই যাত্রা কেবল পরিসংখ্যানের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, প্রতিভা ও অমরত্বের এক অনন্য মহাকাব্য। ফুটবল ইতিহাসের পাতা যতবারই উল্টানো হবে, সেখানে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে একটি নাম— লিওনেল মেসি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।