ক্রুড অয়েল সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

0

ক্রুড অয়েলের সংকটে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারির কার্যক্রমে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ আগামী ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, “বর্তমানে বড় ধরনের কোনো ক্রুড অয়েল সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসবে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছি।”

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছেনি। এর ফলে ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে।

এদিকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।