জ্বালানি সংকট কাটতে লাগতে পারে অন্তত দুই বছর

0

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান পেতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় প্রয়োজন। ফলে এর আগে সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সরকার সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। দীর্ঘ সময় দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান হয়নি। এখন নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লাসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎস নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের জ্বালানি কতটুকু প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই বলেই অর্থমন্ত্রী অন্তত দুই বছর সময় লাগার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো কুইক ফিক্সই সাসটেইনেবল নয়। এর কস্ট ইমপ্লিকেশনও অনেক বেশি।’

তার মতে, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। নতুন সংযোগের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের চাহিদা যুক্ত হলে মোট চাহিদা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। ফলে শুধু গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের সমাধান করা সম্ভব হবে না।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের বিডিং প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং পুরোনো কূপ থেকে পাওয়া গ্যাস দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আরও এলএনজি প্লান্টের কথা বলা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজিনির্ভরতা আরও বাড়বে। এর বিকল্প হলো অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান। সরকার কয়লা অনুসন্ধানের কথা বলছে, কিন্তু এটিও মূল সমাধান নয়।’

তবে এসব উদ্যোগ নিলেও চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি। এজন্য শিল্প খাতে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানো এবং যেখানে সম্ভব গ্যাস ও তেলের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, গ্যাসচালিত বয়লারের পরিবর্তে শিল্পে বৈদ্যুতিক বয়লারের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। যানবাহনে তেলের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাসের পরিবর্তে বিদ্যুৎ, এলপিজি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেচেও ডিজেলের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, থ্রি-হুইলার, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো কারখানায় সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস কিনে এনে ব্যবহারের নজিরও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক সমাধানের পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির প্রসার—এই তিন দিকেই সমন্বিতভাবে কাজ করলেই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।