টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) নগরের কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজার এবং আশপাশের ভাসমান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ ক্রেতাকেই দামের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনতে দেখা যায়।
বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজারের প্রায় সব সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে। কাঁচা মরিচ কেনাই কঠিন হয়ে গেছে। সপ্তাহের বাজার করতে আগের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কষ্টকর।”
চকবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “আগে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দুই-তিন ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।”
কাজীর দেউড়ি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুল কাদের বলেন, “কয়েক দিন আগেও যে সবজি ৬০-৭০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটির দাম ১০০ টাকার বেশি। আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো, এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার নিচে হচ্ছে না।”
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা কেজি। তবে বাজারভেদে দামে ৫ থেকে ১০ টাকার পার্থক্য দেখা গেছে।
চকবাজার খালপাড়ের সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, “আড়তে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যায়, সেটাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যার কারণে দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় সবজির খেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং তার প্রভাব পড়েছে দামে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার নুরুল ইসলাম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। কাঁচা মরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম আড়তেই বেড়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।”


