কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ২৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৪১ হাজার ৫৩৪ পিস ইয়াবা, ৩৫ কেজি ৮৮২ গ্রাম গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১১৭ জন, আগের মামলায় ৬৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৫ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৯ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৪৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১৫৩ জন, সাজা পরোয়ানায় ৩০ জন এবং মাদক মামলায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৫৫ জনকে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ৩৭টি মাদক মামলা করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে মোট এক হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪১ হাজার ৫৩৪ পিস ইয়াবা, ৩৫ কেজি ৮৮২ গ্রাম গাঁজা, ৪৪ লিটার চোলাই মদ ও এক বোতল বিদেশি মদ।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ১৩ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচজন, কুমিল্লায় পাঁচজন, চাঁদপুরে একজন ও লক্ষ্মীপুরে দুজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৮৩ জনের মধ্যে ২৪৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক বা জিম্মাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে নোয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৯৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৬৭, খাগড়াছড়িতে ৩৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭, কক্সবাজারে ১৭, লক্ষ্মীপুরে ১৪, চাঁদপুরে ১২, ফেনীতে ১১ ও রাঙামাটিতে তিনজনকে আটক করা হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


