চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন ছুপি পাড়া এলাকায় বিশাল জায়গাজুড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে শতশত সাদা হাঁসের বিচরণ নজর কাড়ছে পথচারীদের। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সাদা রঙের গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী হাঁসের খামারের উদ্যোক্তা মো. ইব্রাহীম। পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার পাশাপাশি সফলভাবে গড়ে তুলেছেন আধুনিক হাঁসের খামার।
উপজেলার চন্দ্রঘোনা ছুপি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম জানান, শুরুতে তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে ৪০০টি ‘পিকিং স্টার-১৩’ জাতের হাঁসের বাচ্চা এনে খামার শুরু করেন। প্রথম দিকে অনেকেই নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করলেও তিনি থেমে থাকেননি। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই হাঁসগুলো বিক্রয় উপযোগী হয়ে ওঠে এবং দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে এই জাতের হাঁস পালন ও বিক্রি করে আসছেন।
তিনি জানান, এটি মূলত ফ্রান্সের ‘পিকিং স্টার-১৩’ জাতের ব্রয়লার (হাইব্রিড) হাঁস, যা স্থানীয়ভাবে ‘বেলজিয়াম হাঁস’ নামেও পরিচিত। এই হাঁসগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ৪৫ দিনের মধ্যে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। হাঁসগুলোকে ব্রয়লার ফিড খাওয়ানো হয় এবং প্রতিটি হাঁস পালনে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। পরে প্রতিটি হাঁস প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে তার খামারে বাচ্চাসহ প্রায় ১ হাজার হাঁস রয়েছে, যদিও এর আগে মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। তিনি জানান, রাঙ্গুনিয়াসহ কাপ্তাই ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এসব হাঁসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীত মৌসুমে এই হাঁসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। মো. ইব্রাহীম বলেন, হাঁসের খামার এখন তার জন্য লাভজনক একটি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তিনি নিজে যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি অন্যদেরও এই খামার করতে উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি বাচ্চা হাঁসও বিক্রি করছেন, যেখানে ১টি থেকে শুরু করে ১০০টি পর্যন্ত বাচ্চা সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ইব্রাহীমের এই উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার খামার এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদ্যোক্তা ইব্রাহীমের এই সাফল্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।