প্রাচীনকাল থেকে একমাত্র পাহাড়ি এলাকায় আদা চাষ হয়ে আসছিলো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নতুন নতুন ধারণা এবং উন্নত গবেষণার কারণে বস্তায় আদা চাষ এখন কৃষিতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে স্বল্প পুঁজি, কম পরিশ্রম ও অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বস্তায় আদা চাষ।
জানা গেছে, বাড়ির আঙিনা, বাড়ির ছাদ, ছায়াতল অনাবাদি ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় বস্তায় কিংবা টবে বালু, মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে আদা চাষ করছেন অনেকে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, রাঙ্গুনিয়ায় প্রথমবারের মতো মো. হেলাল উদ্দীন এ বছর এক হাজারেরও বেশি বস্তায় পাহাড়ি আদা চাষ করেছেন। যেখানে ১ হাজার আদার বস্তায় খরচ বাদ দিয়ে লাভ আশা করা যায়। পোকামাকড়ের উপদ্রব খুব বেশি না হলে শুধুমাত্র জৈব সার, ছাই, মাটি এবং বালি দিয়েই মিটছে আদা চাষের ঝামেলা।
তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকা বা জমিতে আদা চাষে পোকা আক্রমণ করলে পুরো আদা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বস্তায় ১টি বস্তায় পোকা আক্রমণ করলে একটি নষ্ট হয়। মো. হেলাল উদ্দীনের আদা চাষের পদ্ধতি দেখে অনেক তরুণ চাষীদের ঝোঁক বাড়ছে বস্তায় আদা চাষের প্রতি।
এ বিষয়ে মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, সর্বপ্রথম অনলাইনে ভিডিও দেখে বস্তায় আদা চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছি, প্রথমবার আমি ১ হাজার বস্তায় আদা চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই বস্তায় আদা চাষ আমার ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বস্তায় আদা চাষ করেছি যেখানে জৈব সার, মাটি এবং বালু ব্যবহার করেছি। মাঝে মধ্যে পোকার উপদ্রব দেখা দিলে সামান্য পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করছি। আশা করছি ১ হাজার বস্তা থেকে ২-৩ টন আদা পাবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, মো.হেলাল উদ্দীনের এমন ব্যতিক্রম আদা চাষ দেখে এলাকার অনেক মানুষ তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন। এই চাষকে আরও বেশি সম্প্রসারিত করতে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।