চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই বন্দর কেবল অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, বরং বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গণআন্দোলন, শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতিরোধের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন না করলেও সেই উদ্যোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিডার চেয়ারম্যানসহ নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি দল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নতুন প্রস্তাবনায় শুধু এনসিটি নয়, সিসিটি, জিসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ বন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সিসিটি ও এনসিটি উভয় টার্মিনালই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় দক্ষতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়—এ ধরনের প্রচারণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য বলে দাবি করেন তারা।
শ্রমিক নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কেপিআই-১ বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। একই এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং शाह আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ শুধু ব্যবসা বা মুনাফার বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর রক্ষার আন্দোলন দমনে মামলা, গ্রেপ্তার, বদলি ও হয়রানির মতো দমনমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে জামিনে থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।


